দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কয়েকদিনের থেমে থেমে বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা ও পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি বাড়িঘর ও উঠানে জমে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিরও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে হোসেনপুর, ডোবাপাড়া, হোসেনপুর বাগানবাড়ি, ধানবান্ধি ও মিরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও সেই পানি ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারকে পানির মধ্যেই রান্না করতে দেখা গেছে। শিশুরা জমে থাকা পানিতে খেলাধুলা করছে, কেউ আবার মাছ ধরার চেষ্টা করছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অনেক পরিবার টয়লেট ব্যবহারেও ভোগান্তিতে পড়েছে।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাদাম বলেন, বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে যায়। অনেকের ঘরের ভেতরেও পানি ওঠে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, টয়লেট ব্যবহারেও কষ্ট হয়। পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে এই সমস্যা চলছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মালা রানী বলেন, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও গোসল কোনোটাই স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। সবাই এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহারিয়ার মাহমুদ দাবি করেন, টানা বৃষ্টিতে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর এলাকার বাসিন্দা হয়েও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অবহেলিত এলাকাগুলোর রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌর প্রশাসক শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।
যে আই